তাহাজ্জুদ নামায পড়ার ফযীলত
মহান আল্লাহ বলেন,
وَمِنَ ٱلَّيۡلِ
فَتَهَجَّدۡ
بِهِۦ نَافِلَةٗ
لَّكَ عَسَىٰٓ أَن يَبۡعَثَكَ
رَبُّكَ مَقَامٗا
مَّحۡمُودٗا(الاسراء:
٧٩(
রাত্রির কিছু অংশে তাহাজ্জুদ কায়েম কর;এটা তোমার জন্য এক অতিরিক্ত কর্তব্য। আশা করা যায়,তোমার প্রতিপালক তোমাকে প্রতিষ্ঠিত করবেন প্রশংসিত স্থানে। (সূরা বানী ইসরাইল
৭৯)
তিনি আরও বলেছেন,
تَتَجَافَىٰ
جُنُوبُهُمۡ
عَنِ ٱلۡمَضَاجِعِ
يَدۡعُونَ
رَبَّهُمۡ
خَوۡفٗا وَطَمَعٗا
وَمِمَّا
رَزَقۡنَٰهُمۡ
يُنفِقُونَ
(السجدة: ١٦(
তারা শয্যা ত্যাগ করে আকাঙ্ক্ষা ও
আশংকার সাথে তাদের প্রতিপালককে ডাকে এবং আমি তাদেরকে যে রুযী প্রদান করেছি,তা
হতে তারা দান করে। (সূরা
সেজদা ১৬)
তিনি আরও বলেছেন,
كَانُواْ
قَلِيلٗا
مِّنَ ٱلَّيۡلِ
مَا يَهۡجَعُونَ
(الذاريات:
١٧)
তারা রাত্রির সামান্য অংশই নিদ্রায় অতিবাহিত করত। (সূরা যারিয়াত ১৭ )
হাদীসসমূহ:
®১®
وَعَنْ عَائِشَة رَضِيَ اللهُ عَنْهَا، قَالَتْ: كَانَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم يَقُومُ مِنَ اللَّيْلِ حَتَّى تَتَفَطَّرَ قَدَمَاهُ، فَقُلْتُ لَهُ: لِمَ تَصْنَعُ هَذَا، يَا رَسُولَ اللهِ، وَقَدْ غُفِرَ لَكَ مَا تَقَدَّمَ مِنْ ذَنْبِكَ وَمَا تَأخَّرَ ؟ قَالَ
: أَفَلاَ أَكُونُ
عَبْداً شَكُوراً؟ متفقٌ
عَلَيْهِ . হযরত আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা হতে বর্ণিত, তিনি
বলেন,নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম রাত্রির একাংশে (নামাযে) এত দীর্ঘক্ষণ
কিয়াম করতেন যে,তাঁর পা ফুলে ফাটার উপক্রম হয়ে পড়ত। একদা
আমি তাঁকে বললাম,‘হে আল্লাহর রসূল! আপনি এত কষ্ট সহ্য করছেন কেন? অথচ
আপনার তো পূর্ব ও পরের গুনাহসমূহকে ক্ষমা করে দেওয়া হয়েছে।’ তিনি বললেন,“আমি কি শুকরগুযার বান্দা হব না?” (বুখারী
ও মুসলিম)[১]
®২®
وَعَن المُغِيرَةِ
بن شُعبة رضي الله عنه نَحْوهُ متفقٌ عَلَيْهِ
হযরত মুগীরা ইবনে
শু‘বা রাদিয়াল্লাহু আনহু হতেও
অনুরূপ হাদিস বর্ণিত হয়েছে। (বুখারী ও মুসলিম)
®৩®
وَعَنْ عَليٍّ رضي الله عنه: أَنَّ النَّبِيَّ
صلى الله عليه وسلم طَرَقَهُ
وَفَاطِمَةَ
لَيْلاً،
فَقَالَ : أَلاَ
تُصَلِّيَانِ؟ متفقٌ عَلَيْهِ
হযরত আলী রাদিয়াল্লাহু আনহু হতে বণিত,একদা
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাঁর ও ফাতেমার নিকট রাত্রি বেলায় আগমন করলেন
এবং বললেন,“তোমরা (স্বামী-স্ত্রী) কি (তাহাজ্জুদের) নামায পড় না?” (বুখারী
ও মুসলিম)[২]
®৪®
وَعَنْ سَالِمِ بنِ عَبدِ الله بنِ عُمَرَ بنِ الخَطَّابِ
رضي الله عنهما، عَن أَبيِهِ: أَنَّ رَسُولَ اللهِ صلى الله عليه وسلم، قَالَ
: نِعْمَ الرَّجُلُ
عَبْدُ اللهِ، لَوْ كَانَ يُصَلِّي
مِنَ اللَّيلِ. قَالَ
سالِم: فَكَانَ عَبدُ اللهِ بَعْدَ ذَلِكَ لاَ يَنامُ مِنَ اللَّيلِ
إِلاَّ قَلِيلاً
. متفقٌ عَلَيْهِ
হযরত সালেম ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে উমার
ইবনে খাত্তাব রাদিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত,রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া
সাল্লাম (একবার) বললেন,“আব্দুল্লাহ ইবনে উমার কতই না ভাল মানুষ হত,যদি
সে রাতে (তাহাজ্জুদের) নামায পড়ত।” সালেম বলেন,‘তারপর থেকে (আমার আব্বা) আব্দুল্লাহ রাতে অল্পক্ষণই ঘুমাতেন।’ (বুখারী
ও মুসলিম) [৩]
®৫®
وَعَنْ عَبدِ اللهِ بنِ عَمرِو بنِ العَاصِ رَضِيَ اللهُ عَنْهُمَا، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم
: يَا عَبدَ اللهِ، لاَ تَكُنْ مِثْلَ فُلاَنٍ ؛ كَانَ يَقُومُ اللَّيلَ
فَتَرَكَ
قِيَامَ اللَّيلِ. متفقٌ
عَلَيْهِ
হযরত আব্দুল্লাহ
ইবনে আমর ইবনে আস রাদিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, একদা রাসূলুল্লাহ
সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন,
“হে আব্দুল্লাহ! তুমি অমুক
ব্যক্তির মত হইয়ো না। সে রাতে উঠে নামায পড়ত, তারপর রাতে উঠা ছেড়ে দিল।” (বুখারী ও মুসলিম)[৪]
®৬®
وَعَنِ ابنِ مَسعُود رضي الله عنه، قَالَ: ذُكِرَ عِنْدَ النَّبيِّ صلى الله عليه وسلم رَجُلٌ نَامَ لَيْلَةً حَتَّى أَصْبَحَ، قَالَ
: ذَاكَ رَجُلٌ بَالَ الشَّيطَانُ
في أُذُنَيْهِ
-أَوْ قَالَ: فِي أُذُنِهِ. متفقٌ
عَلَيْهِ
হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে মাসঊদ রাদিয়াল্লাহু আনহু হতে বণিত, তিনি বলেন, এমন একটি লোকের কথা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর
নিকট উল্লেখ করা হল,যে সকাল পর্যন্ত
ঘুমিয়ে রাত্রি যাপন করে। তিনি বললেন,“এ এমন এক মানুষ, যার দু’কানে শয়তান প্রস্রাব করে দিয়েছে।” অথবা বললেন,“যার কানে প্রস্রাব করে দিয়েছে।” (বুখারী ও মুসলিম)[৫]
®৭®
وَعَنْ أَبِي هُرَيرَةَ رضي الله عنه: أَنَّ رَسُولَ اللهِ صلى الله عليه وسلم، قَالَ:
يَعْقِدُ الشَّيطَانُ
عَلَى قَافِيَةِ
رَأسِ أَحَدِكُمْ،
إِذَا هُوَ نَامَ، ثَلاَثَ عُقَدٍ، يَضْرِبُ
عَلَى كُلِّ عُقْدَةٍ:
عَلَيْكَ
لَيْلٌ طَوِيلٌ فَارْقُدْ،
فَإِنِ اسْتَيقَظَ،
فَذَكَرَ
اللهَ تَعَالَى
انحَلَّتْ
عُقْدَةٌ،
فَإِنْ تَوَضَّأَ،
انْحَلّتْ
عُقدَةٌ،
فَإِنْ صَلَّى، انْحَلَّتْ
عُقَدُهُ
كُلُّهَا،
فَأَصْبَحَ
نَشِيطاً
طَيِّبَ النَّفْسِ،
وَإِلاَّ
أَصْبحَ خَبِيثَ النَّفْسِ
كَسْلاَنَ. متفقٌ
عَلَيْهِ
হযরত আবূ হুরাইরা রাদিয়াল্লাহু আনহু
হতে বণিত,রাসূলুল্লাহ
সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন,“যখন তোমাদের কেউ নিদ্রা যায় তখন) তার
গ্রীবাদেশে শয়তান তিনটি করে গাঁট বেঁধে দেয়;প্রত্যেক গাঁটে সে এই বলে মন্ত্র পড়ে
যে,‘তোমার সামনে রয়েছে দীঘ রাত,অতএব তুমি ঘুমাও।’ অতঃপর যদি সে জেগে উঠে আল্লাহর যিকির করে,তাহলে একটি গাঁট খুলে
যায়। তারপর যদি ওযু করে,তবে
তার আর একটি গাঁট খুলে যায়। তারপর
যদি নামায পড়ে,তাহলে সমস্ত গাঁট খুলে যায়। আর
তার প্রভাত হয় স্ফূর্তি ও ভালো মনে। নচেৎ
সে সকালে ওঠে কলুষিত মনে ও অলসতা নিয়ে।” (বুখারী
ও মুসলিম)[৬]
®৮®
وَعَنْ عَبدِ اللهِ بنِ سَلاَمٍ رضي الله عنه: أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم، قَالَ:
أَيُّهَا النَّاسُ:
أَفْشُوا
السَّلاَمَ،
وَأَطْعِمُوا
الطَّعَامَ،
وَصَلُّوا
بِاللَّيْلِ
وَالنَّاسُ
نِيَامٌ،
تَدْخُلُوا
الجَنَّةَ
بِسَلاَمٍ. رواه
الترمذي،
وقال: حديث حسن صحيح
হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে সালাম রাদিয়াল্লাহু আনহু হতে বণিত,নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন,“হে লোক সকল! তোমরা ব্যাপকভাবে সালাম প্রচার কর,(ক্ষুধাতকে) অন্ন দাও এবং লোকে যখন রাতে ঘুমিয়ে থাকবে তখন
নামায পড়। তাহলে তোমরা নিরাপদে ও নিবিঘ্নে জান্নাতে প্রবেশ করবে।” (তিরমিযী হাসান সহীহ)[৭]
®৯®
وَعَنْ أَبِي هُرَيرَةَ رضي الله عنه، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم:
أَفْضَلُ الصِّيَامِ
بَعْدَ رَمَضَانَ:
شَهْرُ اللهِ المُحَرَّمُ،
وَأَفْضَلُ
الصَّلاَةِ
بَعْدَ الفَرِيضَةِ:
صَلاَةُ اللَّيْلِ. رواه
مسلم
হযরত আবূ হুরাইরা
রাদিয়াল্লাহু আনহু হতে বণিত,তিনি বলেন,রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন,“রমযান মাসের রোযার পর সর্বোত্তম রোযা হচ্ছে আল্লাহর মাস মুহাররমের রোযা। আর ফরয নামাযের পর
সর্বোত্তম নামায হচ্ছে রাতের (তাহাজ্জুদের) নামায।” (মুসলিম) [৮]
®১০®
وَعَنِ ابنِ عُمَرَ رَضِيَ اللهُ عَنْهُمَا: أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم، قَالَ:
صَلاَةُ اللَّيْلِ
مَثْنَى مَثْنَى،
فَإِذَا خِفْتَ الصُّبْحَ
فَأَوْتِرْ
بِوَاحِدَةٍ. متفقٌ عَلَيْهِ
হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমার রাদিয়াল্লাহু আনহু হতে বণিত,নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন,“রাতের নামায দু’রাকআত করে। অতঃপর যখন ফজর
হওয়ার আশংকা করবে,তখন এক রাকআত
বিতির পড়ে নেবে।” (বুখারী ও মুসলিম) [৯]
®১১®
وَعَنْه،
قَالَ: كَانَ النَّبِيُّ
صلى الله عليه وسلم يُصَلِّي
مِنَ اللَّيْلِ
مَثْنَى مَثْنَى،
وَيُوتِرُ
بِرَكْعَةٍ
.متفقٌ عَلَيْهِ
হযরত উক্ত রাবী
রাদিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত,তিনি বলেন,‘রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম রাতের বেলায় দু’ দু’ রাকআত করে নামায পড়তেন এবং এক রাকআত বিতির পড়তেন।’ (বুখারী ও মুসলিম)[১০]
®১২®
وَعَنْ أَنَسٍ رضي الله عنه، قَالَ: كَانَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم يُفْطِرُ مِنَ الشَّهْرِ حَتَّى نَظُنَّ أَنْ لاَ يَصُومَ مِنْهُ، وَيَصُومُ حَتَّى نَظُنَّ أَنْ لاَ يُفْطِرَ مِنْهُ شَيْئاً، وَكَانَ لاَ تَشَاءُ أَنْ تَرَاهُ مِنَ اللَّيلِ مُصَلِّياً إِلاَّ رَأيْتَهُ، وَلاَ نَائِماً إِلاَّ رَأيْتَهُ . رواه البخاري
হযরত আনাস রাদিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত,তিনি বলেন,‘কোন কোন মাসে রাসূলুল্লাহ
সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এমনভাবে রোযা ত্যাগ করতেন যে,মনে হত তিনি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উক্ত মাসে আর
রোযাই রাখবেন না। অনুরূপভাবে কোন মাসে এমনভাবে (একাদিক্রমে) রোযা রাখতেন যে,মনে হত তিনি ঐ মাসে আর রোযা ত্যাগই করবেন না। (তাঁর অবস্থা এরূপ
ছিল যে,)যদি তুমি তাঁকে রাত্রিতে
নামায পড়া অবস্থায় দেখতে না চাইতে,তবু বাস্তবে তাঁকে
নামায পড়া অবস্থায় দেখতে পেতে। আর তুমি যদি চাইতে যে,তাঁকে ঘুমন্ত
অবস্থায় দেখবে না,কিন্তু বাস্তবে
তুমি তাকে ঘুমন্ত অবস্থায় দেখতে পেতে।’ (বুখারী) [১১]
®১৩®
وَعَنْ عَائِشَة رَضِيَ اللهُ عَنْهَا: أَنَّ رَسُولَ اللهِ صلى الله عليه وسلم كَانَ يُصَلِّي إِحْدَى عَشْرَةَ رَكْعَةً ـ تَعْنِي فِي اللَّيلِ ـ يَسْجُدُ السَّجْدَةَ مِنْ ذَلِكَ قَدْرَ مَا يَقْرَأُ أَحَدُكُمْ خَمْسِينَ آيَةً قَبْلَ أَنْ يَرْفَعَ رَأسَهُ، وَيَرْكَعُ رَكْعَتَيْنِ قَبْلَ صَلاَةِ الفَجْرِ، ثُمَّ يَضْطَجِعُ عَلَى شِقِّهِ الأَيْمَنِ حَتَّى يَأتِيَهُ المُنَادِي للصَلاَةِ. رواه البخاري
হযরত আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা হতে বর্ণিত, ‘রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এগার রাকআত নামায পড়তেন,অথাৎ রাতে। তিনি মাথা তোলার পূবে এত দীঘ সেজদা করতেন যে, ততক্ষণে তোমাদের কেউ পঞ্চাশ আয়াত পড়তে পারবে। আর ফরয নামাযের পূবে
দু’রাকআত সুন্নত নামায পড়ে
ডান পাশে শুয়ে আরাম করতেন। শেষ পর্যন্ত তাঁর নিকট নামাযের ঘোষণাকারী এসে হাযির হত।’ (বুখারী)[১২]
®১৪®
وَعَنْها، قَالَتْ: مَا كَانَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم يَزيدُ - فِي رَمَضَانَ وَلاَ فِي غَيْرِهِ - عَلَى إِحْدَى عَشْرَةَ رَكْعَةً: يُصَلِّي أَرْبَعاً فَلاَ تَسْألْ عَنْ حُسْنِهِنَّ وَطُولِهِنَّ، ثُمَّ يُصَلِّي أَرْبَعاً فَلاَ تَسْألْ عَنْ حُسْنِهِنَّ وَطُولِهِنَّ، ثُمَّ يُصَلِّي ثَلاثاً. فَقُلتُ: يَا رَسُولَ اللهِ، أَتَنَامُ قَبْلَ أَنْ تُوتِرَ؟ فَقَالَ:
يَا عَائِشَة،
إِنَّ عَيْنَيَّ
تَنَامَانِ
وَلاَ يَنَامُ قَلْبِي. متفقٌ
عَلَيْهِ
হযরত উক্ত রাবী
রাদিয়াল্লাহু আনহা হতে বর্ণিত,তিনি বলেন,‘রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম রমযান ও অন্যান্য মাসে
(তাহাজ্জুদ তথা তারাবীহ) ১১ রাকআতের বেশী পড়তেন না। প্রথমে চার রাকআত পড়তেন। সুতরাং তার সৌন্দয
ও দৈঘ সম্পকে প্রশ্নই করো না। তারপর (আবার) চার রাকআত পড়তেন। সুতরাং তার সৌন্দয ও দৈঘ সম্বন্ধে
প্রশ্নই করো না। অতঃপর তিন রাকআত (বিতির) পড়তেন। (একদা তিনি বিতির পড়ার আগেই শুয়ে গেলেন।) আমি বললাম,“হে আল্লাহর রসূল! আপনি কি বিতির পড়ার পূর্বেই ঘুমাবেন?” তিনি বললেন,“আয়েশা! আমার চক্ষুদ্বয় ঘুমায়; কিন্তু অন্তর জেগে
থাকে।” (বুখারী ও মুসলিম) [১৩]
®১৫®
وَعَنْها:
أَنَّ النَّبِيَّ
صلى الله عليه وسلم كَانَ يَنَامُ أَوَّلَ اللَّيلِ،
وَيَقُومُ
آخِرَهُ فَيُصَلِّي
. متفقٌ عَلَيْهِ
হযরত উক্ত রাবী
রাদিয়াল্লাহু আনহা হতে আরও বণিত হয়েছে যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম রাতের
প্রথম দিকে ঘুমাতেন ও শেষের দিকে উঠে নামায পড়তেন। (বুখারী ও মুসলিম)[১৪]
(অধিকাংশ ক্ষেত্রে তিনি এরূপ করতেন নচেৎ এর
ব্যতিক্রমও করতেন।)
®১৬®
وَعَنِ ابنِ مَسعُود رضي الله عنه، قَالَ: صَلَّيْتُ مَعَ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم لَيْلَةً، فَلَمْ يَزَلْ قَائِماً حَتَّى هَمَمْتُ بِأَمْرِ سُوءٍ ! قِيلَ: مَا هَمَمْتَ ؟ قَالَ: هَمَمْتُ أَنْ أَجِلْسَ وَأَدَعَهُ . متفقٌ عَلَيْهِ
হযরত ইবনে মাসঊদ রাদিয়াল্লাহু আনহু হতে বণিত,তিনি বলেন,‘আমি নবী সাল্লাল্লাহু
আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর সঙ্গে এক রাতে নামায পড়েছি। তিনি এত দীঘ সময় দাঁড়িয়ে
রইলেন যে,শেষ পর্যন্ত আমি একটা মন্দ
কাজের ইচ্ছা করে ফেলেছিলাম।’ ইবনে মাসঊদ
রাদিয়াল্লাহু আনহু-কে জিজ্ঞাসা করা হল,‘সে ইচ্ছাটা কি করেছিলেন?’ তিনি বললেন,‘আমার ইচ্ছা হয়েছিল যে,তাঁকে ছেড়ে দিয়ে বসে পড়ি।’(বুখারী ও মুসলিম) [১৫]
®১৭®
وَعَنْ حُذَيفَةَ رضي الله عنه، قَالَ: صَلَّيْتُ مَعَ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم ذَاتَ لَيْلَةٍ فَافْتَتَحَ البَقَرَةَ، فَقُلْتُ: يَرْكَعُ عِنْدَ المئَةِ، ثُمَّ مَضَى، فَقُلتُ: يُصَلِّي بِهَا فِي رَكْعَةٍ فَمَضَى، فَقُلتُ: يَرْكَعُ بِهَا، ثُمَّ افْتَتَحَ النِّسَاءَ فَقَرَأَهَا، ثُمَّ افْتَتَحَ آلَ عِمْرَانَ فَقَرَأَهَا، يَقرَأُ مُتَرَسِّلاً: إِذَا مَرَّ بِآيَةٍ فِيهَا تَسبِيحٌ سَبَّحَ، وَإِذَا مَرَّ بِسُؤَالٍ سَأَلَ، وَإِذَا مَرَّ بِتَعَوُّذٍ تَعَوَّذَ، ثُمَّ رَكَعَ، فَجَعَلَ يَقُوْلُ: ্রسُبْحَانَ
رَبِّيَ العَظِيمِ. فَكَانَ رُكُوعُهُ نَحْواً مِنْ قِيَامِهِ، ثُمَّ قَالَ:
سَمِعَ اللهُ لِمَنْ حَمِدَهُ،
رَبَّنَا
لَكَ الحَمْدُ ثُمَّ قَامَ طَوِيلاً قَرِيباً مِمَّا رَكَعَ، ثُمَّ سَجَدَ، فَقَالَ:
سُبْحَانَ رَبِّيَ الأَعْلَى. فَكَانَ سجُودُهُ قَريباً مِنْ قِيَامِهِ. رواه مسلم.
হযরত হুযাইফা রাদিয়াল্লাহু আনহু হতে বণিত,তিনি বলেন,আমি নবী
সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর সঙ্গে এক রাতে নামায পড়লাম। তিনি সূরা বাকারাহ
আরম্ভ করলেন। আমি (মনে মনে) বললাম,‘একশত আয়াতের মাথায় তিনি
রুকু করবেন।’(কিন্তু) তিনি তারপরও কিরাত চালু রাখলেন। আমি (মনে মনে)
বললাম,‘তিনি এরই দ্বারা (সূরা শেষ
করে) রুকু করবেন।’কিন্তু তিনি সূরা
নিসা পড়তে আরম্ভ করলেন এবং সম্পূণ পড়লেন। তারপর তিনি সূরা আলে ইমরান আরম্ভ করলেন এবং
সম্পূণ করলেন। তিনি স্পষ্ট ও ধীরে ধীরে তেলাওয়াত করতেন। যখন এমন আয়াত আসত,যাতে তাসবীহ পাঠ করার উল্লেখ আছে,তখন (আল্লাহর) তাসবীহ পাঠ করতেন। যখন কোন প্রাথনা সম্বলিত
আয়াত অতিক্রম করতেন,তখন তিনি আল্লাহর
কাছে প্রাথনা করতেন। যখন কোন আশ্রয় প্রাথনার আয়াত অতিক্রম করতেন,তখন তিনি আশ্রয় প্রাথনা করতেন। (অতঃপর) তিনি সাল্লাল্লাহু
আলাইহি ওয়া সাল্লাম রুকু করলেন। সুতরাং তিনি রুকুতে ‘সুবহানা রাবিবয়াল আযীম’ পড়তে আরম্ভ করলেন। আর তাঁর রুকু ও কিয়াম (দাঁড়িয়ে কিরাত পড়া
অবস্থা) এক সমান ছিল। তারপর তিনি রুকু থেকে মাথা তুলে ‘সামি‘আল্লাহু লিমান হামিদাহ,রাববানা অলাকাল হামদ’ (অর্থাৎ আল্লাহ সেই
ব্যক্তির প্রশংসা শুনলেন,যে তা তাঁর জন্য
করল।
হে
আমাদের পালনকতা তোমার সমস্ত প্রশংসা) পড়লেন। অতঃপর বেশ কিছুক্ষণ (কওমায়) দাঁড়িয়ে থাকলেন
রুকুর কাছাকাছি সময় জুড়ে। তারপর সেজদা করলেন এবং তাতে তিনি পড়লেন,‘সুবহানাল্লা রাবিবয়াল আ‘লা’ (অথাৎ আমার মহান প্রভুর পবিত্রতা বণনা করছি)। আর তাঁর সেজদা দীঘ
ছিল তার কিয়াম (দাঁড়িয়ে কিরাত পড়া অবস্থা)র কাছাকাছি। (মুসলিম) [১৬]
®১৮®
وَعَنْ جَابِرٍ رضي الله عنه قَالَ: سُئِلَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم أَيُّ الصَّلاَةِ أَفْضَلُ؟ قَالَ:
طُوْلُ القُنُوْتِ. رواه
مسلم
হযরত জাবের
রাদিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত,তিনি বলেন,রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-কে সর্বোত্তম
নামায সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হল,তিনি বললেন,“দীঘ কিয়াম-যুক্ত নামায।” (মুসলিম) [১৭]
®১৯®
وَعَنْ عَبدِ اللهِ بنِ عَمرِو بنِ العَاصِ رَضِيَ اللهُ عَنْهُمَا: أَنَّ رَسُولَ اللهِ صلى الله عليه وسلم، قَالَ:
أَحَبُّ الصَّلاةِ
إِلَى اللهِ صَلاةُ دَاوُدَ،
وَأَحَبُّ
الصِّيَامِ
إِلَى اللهِ صِيَامُ دَاوُدَ،
كَانَ يَنَامُ نِصْفَ اللَّيلِ
وَيَقُومُ
ثُلُثَهُ
وَيَنَامُ
سُدُسَهُ
وَيَصُومُ
يَوماً وَيُفْطِرُ
يَوْماً. متفقٌ
عَلَيْهِ
হযরত ‘আব্দুল্লাহ ইবনে ‘আমর ইবনে ‘আস রাদিয়াল্লাহু আনহু হতে
বণিত,রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি
ওয়া সাল্লাম বলেছেন,“আল্লাহর নিকট সর্বোত্তম
নামায,দাউদ عليه
السلام -এর নামায এবং আল্লাহর নিকট সবোত্তম
রোযা,দাউদ عليه
السلام -এর রোযা;তিনি অধরাত নিদ্রা যেতেন এবং রাতের তৃতীয় ভাগে ইবাদত করার
জন্য উঠতেন। অতঃপর রাতের ষষ্ঠাংশে আবার নিদ্রা যেতেন। (অনুরূপভাবে) তিনি একদিন
রোযা রাখতেন ও একদিন রোযা ত্যাগ করতেন।” (বুখারী ও মুসলিম)
[১৮]
®২০®
وَعَنْ جَابِرٍ رضي الله عنه، قَالَ: سَمِعتُ رَسُولَ اللهِ صلى الله عليه وسلم، يَقُوْلُ:
إِنَّ فِي اللَّيْلِ
لَسَاعَةً،
لاَ يُوَافِقُهَا
رَجُلٌ مُسْلِمٌ
يَسْألُ اللهَ تَعَالَى
خَيْراً مِنْ أَمْرِ الدُّنْيَا
وَالآخِرَةِ،
إِلاَّ أعْطَاهُ
إيَّاهُ،
وَذَلِكَ
كُلَّ لَيْلَةٍ. رواه
مسلم
হযরত জাবের
রাদিয়াল্লাহু আনহু হতে বণিত,তিনি বললেন,আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-কে এ কথা বলতে
শুনেছি যে,“রাত্রিকালে এমন একটি সময়
আছে,কোন মুসলিম ব্যক্তি তা
পেয়েই দুনিয়া ও আখিরাত বিষয়ক যে কোন উত্তম জিনিস প্রার্থনা করলে আল্লাহ তা‘আলা অবশ্যই তাকে তা দিয়ে
থাকেন। ঐ সময়টি প্রত্যেক রাতে থাকে।” (মুসলিম) [১৯]
®২১®
وَعَنْ أَبِي هُرَيرَةَ رضي الله عنه: أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم صلى الله عليه وسلم، قَالَ:
إِذَا قَامَ أَحَدُكُمْ
مِنَ اللَّيْلِ
فَلْيَفْتَتِحِ
الصَّلاَةَ
بِرَكْعَتَيْنِ
خَفِيفَتَيْنِ. رواه مسلم
হযরত আবূ হুরাইরা রাদিয়াল্লাহু আনহু হতে বণিত,নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, “যখন তোমাদের কেউ রাতে নামায পড়ার জন্য উঠবে,সে যেন হাল্কা-ভাবে দু’রাকআত পড়ার
মাধ্যমে নামায শুরু করে।” (মুসলিম)[২০]
®২২®
وَعَنْ عَائِشَةَ رَضِيَ اللهُ عَنْهَا، قَالَتْ: كَانَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم إِذَا قَامَ مِنَ اللَّيْلِ افْتَتَحَ صَلاَتَهُ بِرَكْعَتَيْنِ خَفِيفَتَيْنِ . رواه مسلم
হযরত আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা হতে বণিত,তিনি বলেন,‘আল্লাহর রসূল সাল্লাল্লাহু
আলাইহি ওয়া সাল্লাম যখন রাতে (তাহাজ্জুদের) জন্য উঠতেন,তখন দু’রাকআত সংক্ষিপ্ত
নামায পড়ার মাধ্যমে আরম্ভ করতেন।’ (মুসলিম)[২১]
®২৩®
وَعَنْها رَضِيَ اللهُ عَنْهَا، قَالَتْ: كَانَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم
إِذَا فَاتَتْهُ الصَّلاةُ مِن اللَّيْلِ مِنْ وَجَعٍ أَوْ غَيْرِهِ، صَلَّى مِنَ النَّهَارِ ثِنْتَيْ عَشرَةَ ركْعَةً . رواه مسلم
হযরত উক্ত রাবী
রাদিয়াল্লাহু আনহা হতে বণিত,তিনি বলেন,‘দৈহিক ব্যথা-বেদনা বা অন্য কোন অসুবিধার কারণে যদি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু
আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর রাতের নামায ছুটে যেত,তাহলে তিনি দিনের
বেলায় ১২ রাকআত নামায পড়তেন।” (মুসলিম) [২২]
®২৪®
وَعَنْ عُمَرَ بنِ الخَطَّابِ رضي الله عنه، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم:
مَنْ نَامَ عَنْ حِزْبِهِ،
أَوْ عَنْ شَيْءٍ مِنْهُ، فَقَرَأَهُ
فِيمَا بَيْنَ صَلاَةِ الفَجْرِ
وَصَلاَةِ
الظُّهْرِ،
كُتِبَ لَهُ كَأنَّمَا
قَرَأَهُ
مِنَ اللَّيْلِ. رواه
مسلم
হযরত উমার ইবনে খাত্তাব রাদিয়াল্লাহু আনহু হতে বণিত,তিনি বলেন,রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া
সাল্লাম বলেছেন,“যে ব্যক্তি স্বীয় অযীফা (দৈনিক যথা নিয়মে তাহাজ্জুদের নামায) অথবা তার কিছু
অংশ না পড়ে ঘুমিয়ে পড়ে,অতঃপর যদি সে ফজর ও যোহরের মধ্যবতী সময়ে তা পড়ে নেয়, তাহলে
তার জন্য তা এমনভাবে লিপিবদ্ধ করা হয়,যেন সে তা রাতেই পড়েছে।” (মুসলিম)[২৩]
®২৫®
وَعَنْ أَبِي هُرَيرَةَ رضي الله عنه، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم:
رَحِمَ اللهُ رَجُلاً قَامَ مِنَ اللَّيْلِ،
فَصَلَّى
وَأَيْقَظَ
امْرَأَتَهُ،
فَإِنْ أَبَتْ نَضَحَ فِي وَجْهِهَا
المَاءَ،
رَحِمَ اللهُ امْرَأَةً
قَامَتْ مِنَ اللَّيْلِ،
فَصَلَّتْ
وَأَيْقَظَتْ
زَوْجَهَا،
فَإِنْ أَبَى نَضَحَتْ
فِي وَجْهِهِ
المَاءَ. رواه
أَبُو داود بإسناد صحيح
হযরত আবূ হুরাইরা রাদিয়াল্লাহু আনহু হতে বণিত,তিনি বলেন,রাসূলুল্লাহ
সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন,“আল্লাহ সেই ব্যক্তির প্রতি
দয়া করুন,যে রাতে উঠে নামায পড়ে এবং
নিজ স্ত্রীকেও জাগায়। অতঃপর যদি সে (জাগতে) অস্বীকার করে,তাহলে তার মুখে পানির ছিটা মারে। অনুরূপ আল্লাহ সেই মহিলার
প্রতি দয়া করুন,যে রাতে উঠে নামায
পড়ে এবং নিজ স্বামীকেও জাগায়। অতঃপর যদি সে (জাগতে) অস্বীকার করে,তাহলে সে তার মুখে পানির ছিটা মারে।” (আবু দাউদ,বিশুদ্ধ
সূত্রে)[২৪]
®২৬®
وَعَنْه وَعَنْ أَبي سَعِيدٍ رَضِيَ اللهُ عَنْهُمَا، قَالاَ: قَالَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم:
إِذَا أَيْقَظَ
الرَّجُلُ
أهْلَهُ مِنَ اللَّيْلِ
فَصَلَّيَا
- أَوْ صَلَّى رَكْعَتَيْنِ
جَمِيعاً،
كُتِبَا فِي الذَّاكِرِينَ
وَالذَّاكِرَاتِ: رواه أَبُو داود بإسناد صحيح
হযরত উক্ত রাবী রাদিয়াল্লাহু আনহু ও আবূ সাঈদ রাদিয়াল্লাহু
আনহু উভয় হতে বণিত,তাঁরা বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম
বলেছেন,“যখন কোনো ব্যক্তি তার
স্ত্রীকে রাতে জাগিয়ে উভয়ে নামায পড়ে অথবা তারা উভয়ে দু’রাকআত করে নামায আদায় করে,তবে তাদেরকে (অতীব) যিকিরকারী ও যিকিরকারিনীদের দলে
লিপিবদ্ধ করা হয়।”(আবূ দাউদ বিশুদ্ধ সূত্রে) [২৫]
®২৭®
وَعَنْ عَائِشَة رَضِيَ اللهُ عَنْهَا: أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم، قَالَ:
إِذَا نَعَسَ أحَدُكُمْ
في الصَّلاَةِ،
فَلْيَرْقُدْ
حَتَّى يَذْهَبَ
عَنْهُ النَّوْمُ،
فَإِنَّ أَحَدَكُمْ
إِذَا صَلَّى وَهُوَ نَاعِسٌ،
لَعَلَّهُ
يَذْهَبُ
يَسْتَغْفِرُ
فَيَسُبَّ
نَفْسَهُ. متفقٌ
عَلَيْهِ
হযরত আয়েশা
রাদিয়াল্লাহু আনহা হতে বর্ণিত,নবী সাল্লাল্লাহু
আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, “যখন তোমাদের কেউ নামাযের
মধ্যে তন্দ্রাভিভূত হবে,তখন সে যেন নিদ্রা
যায়, যতক্ষণ না তার নিদ্রার চাপ
দূর হয়ে যায়। কারণ,যখন কেউ তন্দ্রাচ্ছন্ন হয়ে
নামায পড়বে,তখন সে খুব সম্ভবত: ক্ষমা
প্রার্থনা করতে গিয়ে নিজেকে গালি দিতে লাগবে।” (বুখারী ও মুসলিম) [২৬]
®২৮®
وَعَنْ أَبِي هُرَيرَةَ رضي الله عنه، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم:
إِذَا قَامَ أَحَدُكُمْ
مِنَ اللَّيْلِ،
فَاسْتَعْجَمَ
القُرْآنَ
عَلَى لِسَانِهِ،
فَلَمْ يَدْرِ مَا يَقُوْلُ،
فَلْيَضْطَجِع. رواه مسلم
হযরত আবূ হুরাইরা রাদিয়াল্লাহু আনহু হতে বণিত,তিনি বলেন,রাসূলুল্লাহ
সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন,“যখন তোমাদের কেউ রাতে উঠবে
ও (ঘুমের চাপের কারণে) জিহ্বায় কুরআন পড়তে এমন অসুবিধা বোধ করবে যে,সে কি বলছে তা বুঝতে পারবে না,তখন সে যেন শুয়ে পড়ে।” (মুসলিম) [২৭]
সূত্র:
[১] সহীহুল বুখারী ৪৮৩৭, ১১১৮,
১১১৯, ১১৪৮,
১১৬১, ১১৬২,
১১৬৮, মুসলিম ৭৩১, ২৮২০, তিরমিযী ৪১৮, নাসায়ী ১৬৪৮-১৬৫০, আবূ দাউদ ১২৬২, ১২৬৩, ইবনু মাজাহ ১২২৬, ১২২৭
[২] সহীহুল বুখারী ১১২৭, ৪৭২৪,
৭৩৪৭, ৭৪৬৫,
মুসলিম
৭৭৫, নাসায়ী ১৬১১, ১৬১২,
আহমাদ
৫৭২, ৭০৭, ৯০২
[৩] সহীহুল বুখারী ৪৪০, ১১২২,
১১৫৮, ৩৭৩৯,
৩৭৪১, ৭০১৬,
৭০২৯, ৭০৩১,
মুসলিম
২৪৭৮, ২৪৭৯, তিরমিযী ৩২১, নাসায়ী ৭২২,
ইবনু
মাজাহ ৭৫১, ৩৯১৯ আহমাদ ৪৪৮০, ৪৫৯৩,
৪৫৮৫, ৬২৯৪,
দারেমী
১৪০০, ২১৫২
[৪] সহীহুল বুখারী ১১৩১, ১১৫২,
১১৫৩, ১৯৭৪-১৯৮০, ২৪১৮-২৪২৩, ৫০৫২-৫০৫৪, ৫১৯৯,
৬২৭৭, মুসলিম ১১৫৯, তিরমিযী ৭৭০,
নাসায়ী
১৬৩০, ২৩৪৪, ২৩৮৮-২৩৯৪, ২৩৯৬, ২৩৯৭, ২৩৯৯-২৪০৩, আবূ দাউদ ১৩৮৮-১৩৯১,
২৪২৭, ২৪৪৮,
ইবনু
মাজাহ ১৩৪৬, ১৭১২, আহমাদ ৬৪৪১, ৬৪৫৫, ৬৪৮০, ৬৪৯১,
৬৭২১, ৬৭২৫,
৬৭৫০, দারেমী ১৭৫২, ৩৪৮৬
[৫] সহীহুল বুখারী ১১৪৪, ৩২৭০,
মুসলিম
৭৭৪, নাসায়ী ১৬০৮, ১৬০৯,
ইবনু
মাজাহ ১৩৩০, আহমাদ ৩৫৪৭, ৪০৪৯
[৬] সহীহুল বুখারী ১১৪২, ৩২৬৯,
মুসলিম
৭৭৬, নাসায়ী ১৬০৭, আবূ দাউদ ১৩০৬, ইবনু মাজাহ ১৩২৯,
আহমাদ
৭২৬৬, ৭৩৯২, ১০০৭৫,
মুওয়াত্তা
মালিক ৪২৬
[৭] তিরমিযী ২৪৮৫, ইবনু মাজাহ ১৩৩৪, ৩২৫১,
দারেমী
১৪৬০
[৮] মুসলিম ১১৬৩, তিরমিযী ৪৩৮,
৭৪০, আবূ দাউদ ২৪২৯, ইবনু মাজাহ ১৭৪২,
আহমাদ
৭৯৬৬, ৮১৮৫, ৮৩০২,
৮৩২৯, ১০৫৩২,
দারেমী
১৭৫৭, ১৭৫৮
[৯] সহীহুল বুখারী ৪৭২, ৪৭৩,
৯৯১, ৯৯৩,
৯৯৫, ৯৯৮,
১১৩৭, মুসলিম ৭৪৯, তিরমিযী ৪৩৭,
৬৪১, ১৬৬৬,
১৬৬৭, ১৬৬৮,
১৬৬৯, ১৬৭০,
১৬৭১, ১৬৭২,
১৬৭৩, ১৬৭৪,
১৬৮২, ১৬৯২,
১৬৯৪, আবূ দাউদ ১৪২১, ১৪৩৮, ইবনু মাজাহ ১১৭৪, ১১৭৫,
১১৭৬, ১৩২২,
আহমাদ
৪৪৭৮, ৪৫৪৫, ৪৬৯৬,
৪৭৭৬, ৪৮৩২,
৪৮৪৫, ৪৯৫১,
৫০১২, ৫০৬৬,
৫১০১, ৫১৯৫,
৫৩৭৬, ৪৫৩১,
৪৫৪৭, ৪৫৬৬,
৫৫১২, মুওয়াত্তা মালিক ২৬১, ২৬৯,
২৭৫, ২৭৬,
দারেমী
১৪৫৮
[১০] ঐ
[১১] সহীহুল বুখারী ১১৪১, ১৯৭২,
১৯৭৩, মুসলিম ১১৫৮, তিরমিযী ৭৬৯,
২০১৫, নাসায়ী ১৬২৭, আগ ১১৬০১, ১১৭১৯, ১২২১৩,
১২৪২১, ১২৪৭১,
১২৬৫৪, ১২৭৬২,
১২৯৬০, ১২৯৯০,
১৩০৬১, ১৩২৩৮,
১৩৩০৪, ১৩৩৭০,
১৩৮৬, ১৩৪০৬
[১২] সহীহুল বুখারী ৬২৬, ৯৯৪,
১১২৩, ১১৩৯,
১১৪০, ১১৬০,
১১৬৫, ৬৩১০,
মুসলিম
৭২৪, ৭৩৬, ৭৩৭,
৭৩৮, তিরমিযী ৪৩৯, ৪৪০, নাসায়ী ৬৮৫, ১৬৯৬,
১৭৪৯, ১৭৬২,
আবূ দাউদ
১২৫৪, ১২৫৫, ১২৬২,
১৩৩৪, ১৩৩৮,
১৩৩৯, ১৩৪০,
ইবনু
মাজাহ ১১৯৮, ১৩৫৮, আহমাদ ২৩৫৩৭, ২৩৫৫৩, ২৩৫৯৬, ২৩৬৬৮,
২৩৬৯৭, ২৩৭০৫,
২৩৯২৫, ২৩৯৪০,
২৪০১৬, ২৪০২৪,
২৪০৫৬, ২৪২১১,
২৪৩৩৯, ২৪৩৭৯,
২৪৪৮৬, ২৪৫৮১,
২৪৭৪৫, ২৪৮১৬,
২৪৯০৭, ২৪৯৫৮,
২৫৫২০, মুওয়াত্তা মালিক ২৪৩, ২৬৪,
দারেমী
১৪৪৭, ১৪৭৩, ১৪৭৫,
১৪৮৫
[১৩] সহীহুল বুখারী ১১৪৭, ২০১৩,
৩৫৬৯, মুসলিম ৭৩৮, তিরমিযী ৪৩৯,
নাসায়ী
১৬৯৭, আবূ দাউদ ১৩৪১, আহমাদ ২৩৫৫৩, ২৩৫৯৬, ২৩৭৪৮, ২৩৯২৫,
২৩৯৪০, ২৪০১৬,
২৪০৫৬, ২৪১৯৪,
২৪২১১, ২৫২৭৭,
২৫৭৫৬, ২৫৮২৬,
মুওয়াত্তা
মালিক ২৬৫
[১৪] সহীহুল বুখারী ১১৪৬, মুসলিম ৭৩৯, নাসায়ী ১৬৪০,
১৬৮০, ইবনু মাজাহ ১৩৬৫, আহমাদ ২৩৮১৯, ২৪১৮৫, ২৪৫৪, ২৫৬২৪
[১৫] সহীহুল বুখারী ১১৩৫, মুসলিম ৭৭৩, ইবনু মাজাহ ১৪১৮,
আহমাদ
৩৬৩৮, ৩৭৫৭, ৩৯২৭,
৪১৮৭
[১৬] মুসলিম ৭৭২, তিরমিযী ২৬২,
নাসায়ী
১০০৮, ১০০৯, ১০৪৬,
১০৬৯, ১১৩৩,
১১৪৫, ১৬৬৪,
১৬৬৫, আবূ দাউদ ৮৭১, ৮৭৪, ইবনু মাজাহ ৮৮৮, ৮৯৭,
১৩৫১, আহমাদ ২২৯৭৯, ২২৭৫০, ২২৭৮৯, ২২৮০০,
২২৮৩৩, ২২৮৫৪,
২২৮৫৮, ২২৫৬৬,
২২৮৯০, ২২৯০২,
দারেমী
১৩০৬
[১৭] মুসলিম ৭৫৬, তিরমিযী ৩৮৭,
ইবনু
মাজাহ ১৪২১, আহমাদ ১৩৮২১, ১৪৭৮৮
[১৮] সহীহুল বুখারী ১১৩১, ১১৫২,
১১৫৩, ১৯৭৪ থেকে ১৯৮০, ৩৪১৮, ৩৪১৯, ৩৪২০,
৫০৫২, ৫০৫৩,
৫০৫৪, ৫১৯৯,
৬১৩৪, ৬২৭৭,
মুসলিম
১১৫০৯, তিরমিযী ৭৭০, নাসায়ী ১৬৩০, ২৩৪৪, ২৩৮৮ থেকে ২৩৯৪, ২৩৯৬,
২৩৯৭, ২৩৯৯ থেকে ২৪০৩, আবূ দাউদ ১৩৮৮ থেকে ১৩৯১, ২৪২৭, ২৪৪৮, ইবনু মাজাহ ১৩৪৬, ১৭১২,
আহমাদ
৬৪৪১, ৬৪৫৫, ৬৪৮০,
৬৪৯১, ৬৭২১,
৬৭২৫, ৬৭৫০,
৬৭৯৩, ৬৮০২,
৬০৮২৩, ৬৮২৪,
৬৮৩৪, ৬৮৩৭,
৬৮৭৫, ৬৮৮২,
৬৯৮৪, ৭০৫৮,
দারেমী
১৭৫২, ৩৪৮৬
[১৯] মুসলিম ৭৫৭, আহমাদ ১৩৯৪৫,
১৪৩৩৬, ২৭৫৬৩
[২০] মুসলিম ৭৬৮, আবূ দাউদ ১৩২৩,
আহমাদ
৭১৩৬, ৭৬৯০, ৮৯৩১
[২১] মুসলিম ৭৬৭, আহমাদ ২৩৪৯৭,
২৫১৪৯
[২২] মুসলিম ৭৪৬, তিরমিযী ৪৪৫,
নাসায়ী
১৭২২, ১৭২৩, ১৭২৪,
১৭২৫, ১৭৮৯,
আবূ
দাউদ ১৩৪২, ১৩৪৬, ১৩৫০,
২৪৩৪, ইবনু মাজাহ ১১৯১, আহমাদ ২৩৭৪৮, ২৫৬৮৭, দারেমী ১৪৭৫
[২৩] মুসলিম ৭৪৭, তিরমিযী ৪০৮,
নাসায়ী
১৭৯০ থেকে ১৭৯২, আবূ দাউদ ১৩১৩, ১৩৪৩,
২২০, ৩৭৯,
মুওয়াত্তা
মালিক ৪৭০, দারেমী ১৪৭৭
[২৪] আবূ দাউদ ১৩০৮, নাসায়ী ১৬১০, ইবনু মাজাহ ১৩৩৬,
আহমাদ
৭৩৬২
[২৫] আবূ দাউদ ১৩০৯, ইবনু মাজাহ ১৩৩৫
[২৬] সহীহুল বুখারী ২১২, মুসলিম ৭৮৬, তিরমিযী ৩৫৫,
নাসায়ী
১৬২, আবূ দাউদ ১৩১০, ইবনু মাজাহ ১৩৭০, আহমাদ ২৩৭৬৬, ২৫১৩৩, ২৫১৭১, ২৫৬৯৯,
২৫৭৭৭, মুওয়াত্তা মালিক ২৫৯, দারেমী ১৩৮৩
[২৭] মুসলিম ৭৮৭, আবূ দাউদ ১৩১১,
ইবনু
মাজাহ ১৩৭২, আহমাদ ২৭৪৫০
----সংগ্রীহিত
No comments:
Post a Comment